সব্যসাচী সান্যাল-এর কবিতা

fail

এই জায়গাটার প্রতি আর কোন মোহবোধ নেই, দেখি। ঢুকে পড়ি কখনো, দেখতে, কিছু বদলালো কি-না, নতুন করে প্রেমে পড়ার মত কিছু কি উজাগর! নাহ। এর থেকে তত্ব-চিন্তনের গ্রীন কেমিস্ট্রি– ক্যাটালিস্ট, জিওলাইট। আর ইলেক্ট্রিক ভিহিকলের উন্মাদনা কত মানুষকে টাটা পাওয়ারের দিকে ধাবিত করছে, টাটা মোটরে, ওদিকে উত্তরদেশে আপনা দলের অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কৃষ্ণা প্যাটেল (মা)– কুর্মী ভোটের ভাগ-বাটোয়ারা… মৌর্য, রাজভর। কিছু তো বিজলিবুনোট আছে এসব জগতের, হ্যাক-স, রেজর তারের…।

আপন আর্শিতে টেরিবিনোদ বাংলা সাহিত্য, অভিনন্দন তোমাকেও, (আত্ম লিখতে গেলে বারচারেক অটোকারেক্টে এটিএম হলো), শীত পড়ছে, কুকুরকুণ্ডলী মুবারক হো।

দালাল স্ট্রীটের কবিতা

১.

মেরা দিল ছিছা লেদার– আর এমন ছিছা যে বার্নিশ মেরে সোনার বাকলসে ছোট্টটি সে লালজুতুয়া ভালোবাসার পায়ে সাধবে সে জো নেই। ফলে ভালোবাসার মানুষকে দিনকালের কথা শোনাই– এই যে, মরে গিয়ে বেশ করেছ, আবহাওয়া তো ভালো নয়, কেন দুঃখ পাবে মিছে, তাছাড়া দূরত্ব তো জীবিতের পাওনা, মরেই গেছ, এখন যখন, আড্ডা মারা যাবে, দূরত্বই তো একচুয়াল লস, মৃত্যু স্রেফ নোশনাল। তা’ছাড়া এই যে শেল্ফলাইফ বাড়াতে ঘানির তেলকে ব্লীচ করা লাগে, ভালোবাসায় ওসব রিফাইনমেন্ট চলে কী! আর এবার বাজারে ইলিশে ফর্মালিন, সেও স্থায়ীত্বের দাবিতে, পাঙাশ জ্যান্ত অবশ্য। ইনফোসিস, টিসিএস কিছুদিন নামল, ক্রুড অয়েল দর বাড়ায় পেইন্টস ইন্ডাস্ট্রি ঝাড় খাচ্ছে। শেয়ার মানে তো আদান প্রদানও ফলে আমার আবহাওয়া থেকে একটু তোমার জলবায়ুতে লাগে, না বাটারফ্লাই এফেক্ট জাতীয় গ্রান্ড নোশান নয়, পরশ মাত্র। আমার লস আজ ৭.৮%, তোমাতে তার ম্যাজিক লাগুক!

২.

শেয়ার বাজারে তো শুধু ইকুইটি নয়, ভবিষ্যত আর অপশনও বিকোয়, আর কমোডিটি। আপনি ১০০ কুইন্টল গম কিনে বেচে দিন, সবটাই প্রমিসরি, প্রতিশ্রুতির খেলা, গম আপনি দেখতেও পাবেন না হাতে তুলে, তার দানায় গোক্ষুরার শ্বাস লেগে আছে কী-না। গোক্ষুরা তার গোধূম রঙের কারণে গেঁহুমন নামেও পরিচিত, মুন্সীর শালীন সুন্দরীদের গাত্রবর্ণ ওই।

ভালোবাসাকে কমোডিটি ভাবতে ইতস্তত করি না, ফলে, সুনীলের প্রেম তিনশো বাইশ টাকা রতি, আমি নীরাকে পাঠাই ৩২৬-এ। বলাই বাহুল্য, ও প্রেম আমি ছুঁয়েও দেখিনি, শুধু তার গল্প যা বাজারদরের হিসেবে গড়ে ওঠে, কোথাও পর্দার আড়ালে চকিত সরে যায়, ফৌরন, ফৌরনের আর একটি প্রতিশব্দ উর্দুতে আছে; দফতন– নিকা সিনেমার গানে শোনা গেছে।

বাই দি বাই, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ মনোপলি বিজনেস, এমসিএক্স–স্টক কিনতে পারেন।

৩.

মরুভূঁই আর সাগরমাথার মত দালাল স্ট্রীটেও চাঁদ ওঠে আর আধপাগল ডুকরে ওঠে–পূর্ণিমা, ওহ..। চাঁদের স্টক প্রাইস আজও কমলো না, আর্মস্ট্রং অল্ড্রিন নামার পরও প্রফিট বুকিং হয়নি, কেবল নীরেণবাবু দীর্ঘশ্বাসে নিউজপ্রিন্ট পাল্টেছিলেন।

দালাল স্ট্রীট আমাকে শেখায় লোভ সংবরণ। পাশের কবি চাঁদ দেখিয়ে বাহবা পেল, আমিও নামি– এ’মত স্পৃহার থেকে মুখ ফেরানোর কৌশল। কৌশল উপায় নয়, কৌশল তাই, যাতে কুশল-মংগল মানুষের হয়, সে নিবিষ্ট, সিগারেটে টান দিয়ে শান্তি পায়।

প্রাইস বাই আর্নিং রেশিও দেখায় কোন শেয়ার মানুষ কিনতে চায় প্রাণপণ, মোরাদাবাদী পিত্তল, চাঁদিভাঁও বিকোয়, ফ্যাব ইন্ডিয়ার চটের ব্যাগে যেমন সিল্কের দর। আমি সেই শেয়ারে হাত দেব যে তার ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের নিচে ঘুরছে, গত কোয়ার্টারে বাম্পার প্রফিট, দেনা কমিয়ে আনা।

ইন্ডিয়া পেস্টিসাইড লিমিটেড আমার আগামীর দাঁও– ৩১৭। লক্ষী অর্গানিক (৪৯০) অক্টোবর কোয়ার্টারের রেজাল্ট বেরোলে দেখা যাবে।

৪.

ইলেক্ট্রিক বাহনেই ভবিষ্যত। এদিকে তেমন কিছু নেই। টাটা চেষ্টা চালাচ্ছে। মোটর্স, পাওয়ার (৫০% চার্জিং স্টেশান), এলক্সি (সফটওয়্যার), কেমিকেলস (লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি)। ওদিকে টেসলা অনেক ধাপ এগিয়ে। কিন্তু য়োরোপ আর চীনের ছোট স্টার্টআপস অনেক কার্যকরী ব্যাটারি বানাচ্ছে। সে সব কম্পানি অধিগ্রহণে না যাওয়া অব্দি ভবিষ্যত এখনো কুয়াশা। গুজব এও এল টেসলার দূত সোনা কমস্টার, ভারত ফোর্জিং আর সানধার-এর সভায় এসেছে– সে খবর ভুল। আপাতত আমি কেপিআইটি দেখছি। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, সফটওয়ার, ছোট কম্পানি, বিএমডব্লিউ আর মার্সিডিজ কিছু নিবেশ করেছে। আমার দুটি গাড়ি, পেট্রলে চলে। গাঁ-দেহাতে মানুষ মিট্টি কা তেল নিয়ে ঘরে ফেরে, ২৫০ মিলি। মিট্টি কা তেল, আদতে কেরসিনের নাম। আজকাল পেট্রলকেও সে নামে ডাকা হয়। পেট্রল রিফাইন্ড, অধুনার বাবু কালচারের মত, সীসা বর্জ্য। মাছধরা জালে সীসার ব্যবহার আছে। যাই হোক, মিট্টি কা তেল নামে আজকাল পেট্রলও অভিহিত হয়, এই যেমন এ লেখাকে কবিতা নামে ডাকি।

আপনি তো চান না কবিতা কাউকে ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস দিক, আমিও চাই না– সে বড়জোর নতুন চোখে দেখার একটা জানলা খুলে দেবে, এই মনে হয়। সূর্যোদয়, আজান, মেঘলা দিন আজ। এসমস্ত বাদ দিয়ে আমার সেই হার্ডওয়ার স্টোরের মালিকের কথা মনে পড়ে, যে দোকানের নাম রেখেছিল –লোহালক্কড়।

৫.

আমার তো খুব মডলিন লাগে (বাংলায় সে’রম আর প্রীতিশব্দ কই!), আজকাল, অল্পে রোদন, অল্পতাপে মাখনের মত অবিন্যস্ত হয়ে পড়া। তো এইসব দিনে উজ্জীবন হোল্ডিং আর ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের কথা মনে পড়ে। ইয়েস ব্যাংকের সংগে ঝামেলা চলছে। উজ্জীবন আজকাল ব্যতিব্যস্ত, রোজ কিছু ওঠা আর ততোধিক নামা, এদিকে নিফটির ব্যাংকিং সেক্টর ১৫০%-এ। আইসিআইসিআই, কোটাক মাহিন্দ্রা, এইচডিএফসি, স্বল্প এসবিআই (গতকাল ৪১৪, আপ ০.৩%)–এর বেশি দেখো না নয়ন– কেনইবা ইকুইটাস মুজরা করবে! গ্রাফ দেখি, ক্যান্ডল চার্ট, কোথায় সাপোর্ট, কোথায় রেজিস্ট্যান্স– কেন একা উজ্জীবন লড়ে যাবে, এই তো জন্মাস্টমী গেল, এখনো মরশুম তালের, কালো ও মাদক গন্ধে আকাশ জমেছে। ক্ষুদ্র সঞ্চয় থেকে বাজাজ ফিনসার্ভে ফেরি কি ভিড়বে না!

৬.

তিনমাস আগে ১৪৫ টাকার আইপিও, গতকাল ৫১৬.৬, আজ গণেশ চতুর্থী। লক্সমী অরগানিক্স, স্পেশালিটি কেমিকেল, ওঠে, উঠে যায়। কনসলিডেশান নেই, শুধু সূচক ছাপিয়ে তার বেড়ে ওঠা। ধার কম, মুনাফা অভ্রান্ত। ইথাইল অ্যাসিটেট; পেন্ট থিনার থেকে সুগন্ধী নির্মাণে, সেখানে লক্ষী, কুলোয় চালের গুড়ি, আধো পদচ্ছাপ, শিউলি দু এক কলি, যাকে লক্সমী– কেন কে জানে– হরশৃংগার বলে ডাকে। আজ ওঠা অব্যাহত, বন্ধ দালাল স্ট্রীটে। গণেশ চতুর্থী। ওই তো চূড়ায় একা দীপক নাইট্রাইট! কিমত ২৩০০।

৭.

শেয়ারবাজারেও
দেবীপক্ষ এলে, মেঘ জমে
মথিত ঘাসের গুছি
গাধার ক্ষুরের নীচে জাগে
নীল ফুল
রাবণের পাগড়ির মত
এমন অনন্ত নীল
চাঁদের আলোয়
তাকে কোনোদিন
কালো দেখাবে না

মাঈ হাসে। শীর্ণ কালো হাত
সোনার মুখোটা
চীহড়লতার মালা
বাউলির পাড়ে সূর্য থমকে আছে
গাধা এসে ঘোর ভাঙে জলের

Facebook Comments

Leave a Reply