মহাকাশ, মহাবিশ্ব : শংকর লাহিড়ী

fail

শংকর লাহিড়ী[বিস্ময় আর খোঁজ মানুষের এই দুটো গুণই ক্রমবিকাশ ঘটিয়েছে মানব সভ্যতার। নিজের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড ও তারই মাঝে নিজের আপাত অবস্থানকে চিনে নিতে চেয়েছে সে চিরকাল। ধীরে ধীরে আমরা জানতে পেরেছি আমাদের পৃথিবীকে, তারপর পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশ, মহাবিশ্ব। কত অজানা খবর, কত আবিষ্কার ঘটে চলেছে দিনের পর দিন। সেই সমস্ত কথা নিয়েই এবার কলম ধরলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, চিত্র-পরিচালক ও প্রকৌশলী শংকর লাহিড়ী। কসমোলজি নিয়ে তাঁর গভীর আগ্রহ ও জ্ঞানের কথা অনেকেই জানেন। যে দক্ষ শৈল্পিক ভঙ্গিতে তিনি এই সমস্ত জটিল তত্ত্ব ও আবিষ্কারের কথা লেখেন তার সাথে ইতিমধ্যেই অনেক পাঠক পরিচিত। অপরজনের ধারাবাহিক বিভাগ – “মহাকাশ মহাবিশ্ব”।]

 

 

১৭

প্রেমের ভয়াবহ গম্ভীর স্তম্ভ

আজও, এই একবিংশ শতাব্দীতেও, অনেকে মহাকাশকেই পরলোক বা স্বর্গলোক মনে করেন। মানে, মৃত্যুর পরপারে যা কিছু আছে, যেখানে একে একে চলে যায় সকলেই, তা বুঝি ওই মহাশূন্যেরই অন্ধকার গভীরে কোনও এক আলোকিত আনন্দলোক। চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা, নক্ষত্রখচিত ঝলমলে রাত। জীবনানন্দের মনে হয়েছিল—বেবিলনের রানীর ঘাড়ের ওপর চিতার উজ্জ্বল চামড়ার শালের মতো জ্বলজ্বলে এক বিশাল আকাশ। ওই আকাশকে আমরাও দেখেছি। ওই পথ দিয়েই বুঝি সেই মহর্লোক। মানুষের যা কিছু আক্ষেপ, অভিযোগ, আকুল প্রার্থনা, সবই ওই আকাশের দিকে মুখ রেখে। চিতার আগুনের ধোঁয়া ওইদিকেই যে উড়ে যায়। ক্রিকেটারদেরও দেখেছি। প্রতিবার ছয় মারার পর ব্যাট তুলে গ্যালারির দিকে, আর চোখ তুলে উর্ধাকাশে নীলিমায় তারা প্রণাম জানিয়েছে। কারণ তার শৈশবে শোনা সেই এক তোতাপাখির গান—‘সবাই বলে ওই আকাশে লুকিয়ে আছে খুঁজে নাও’।

আমি বিস্মিত হয়ে লক্ষ করেছি, বেশিরভাগ মানুষ, শতকরা পঁচানব্বইজনই, মহাকাশ মহাবিশ্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের কথাবার্তা শোনায় বিশেষ আগ্রহী নন। বিষয়টা এড়িয়ে চলেন। মনে করেন, বিজ্ঞানীদের এসব অলীক কথায় কান দিলে স্বপ্নলোকের, স্বর্গলোকের, অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। কারণ ওইখানেই তো প্রয়াত চোদ্দ পুরুষের, পিতৃ পিতামহ আত্মীয় বন্ধুদের নিশ্চিন্ত আশ্রয়। বিপুল খরচে শ্রাদ্ধশান্তি ক’রে ওখানে স্থান দিতে হয়েছে। কবিরাও মনে করেন, প্রয়াত বন্ধুরা বুঝি পরলোকে গিয়ে মহানন্দে আড্ডা মারছে, পত্রিকা প্রকাশ করছে, বেশ আছে। কিন্তু সেই পরলোক কি সপ্তর্ষিমন্ডলে, কালপুরুষে, স্বাতী তারায়, ম্যাজেলান মেঘে, ছায়াপথেরই কোনও বাঁকে, নাকি অ্যান্ড্রোমিডা নেবুলায়? এসব তো বিজ্ঞানীরাও বলতে পারেন না। বিজ্ঞানীরা গলদঘর্ম হয়ে ব্রহ্মান্ড জুড়ে প্রাণের সন্ধান করে চলেছেন। দেহহীন প্রাণহীন মহান আত্মারা তবে থাকেন কোথায়, যাঁরা শুনতে পান আমাদের শঙ্খ-ঘন্টাধ্বনি, দেখতে পান আমাদের সুখ-অসুখ, বুঝতে পান আমাদের মনের কথা?
মরে গিয়ে মানুষ তবে যায় কোথায় ? -এই প্রশ্নের উত্তরে তাই শতকরা পঁচানব্বই জনই বলবেন পরলোকের কথা, যেখানে স্বর্গ এবং নরক নামক দুটো শাসনব্যবস্থা আছে। এদের মধ্যে কবি সাহিত্যিক চিত্রকর ফেরেব্বাজ ফাঁসুড়ে অভাগী ব্রহ্মচারী– সবাই আছেন। নরক-টরকে বিশেষ কেউ আর বিশ্বাস করেন না। যাকিছু নরকভোগ, তা এই পৃথিবীতেই। মৃত্যুর পরে যাবতীয় যন্ত্রণা শেষ। শ্রাদ্ধ, শান্তি, স্বর্গলোক, সব ওই মহাশূন্যের কোনও গভীর গোপনে।

মরে গিয়ে মানুষ তবে যায় কোথায় ? -এই প্রশ্ন একবার আমাকে করেছিলেন কবিদম্পতি মণীন্দ্র গুপ্ত ও দেবারতিদি। আমি সেদিন বলেছিলাম- আমি ঠিক জানি না। কিন্তু আমি তো জানি, মরে গেলে নির্ঘাৎ মানুষ যায় না কোথাও, মহাকাশে নক্ষত্র হয়েও ভেসে থাকে না। মরে যাওয়া মানে, চেতনাশ্রিত শরীরব্যবস্থা বিকল হয়ে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়া। তার যাবতীয় প্রোটিন আর এঞ্জাইম ভেঙ্গে পড়ে। ক্রমে তারা বাঁধনছাড়া বিশৃংখল কতগুলো মৌলিক কণামাত্র। তার আর নিজস্ব কোনও আধার নম্বর নেই। সমগ্র বিশ্বপ্রকৃতিতে ব্যাপ্ত কোয়ান্টাম ফিল্ডই তার আধার। এখানেই লুপ্ত তার যাবতীয় মৌলিকতা। এর বাইরে কিচ্ছু নেই, কোথাও নেই। যদি থাকতো, তবে এ পৃথিবী এমন হত না।

বেশ, ভেঙ্গে পড়া একটা ব্যবস্থার কথা তো বোঝা গেল, কিন্তু কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল, শুরুতে গড়ে উঠেছিল ওই চেতনাশ্রিত পদার্থগত সংহত গাণিতিক ব্যবস্থাপনা, তা তো আজও সম্যক বুঝে ওঠা যায়নি। তার মানে, যেটুকু আমরা জেনেছি তা শুধুই অর্ধসত্য। -একদিন আমি আর কবি সমীর রায়চৌধুরী এইসব প্রশ্নের সাদা-কালো-ধূসর দেওয়ালের মাঝে আবদ্ধ হয়ে এর উত্তর খুঁজেছিলাম। সমীরদা বিশ্বাস করতেন, মৃত্যুর আগে অচেতনে নাকি শঙ্খধ্বনি শোনা যায়। সমীরদার বাঁশদ্রোণীর বাড়িতে, ওঁর মৃত্যুর কয়েকমাস আগে, তখন আমার ‘উত্তরমালা’ ছবিটার কাজ চলছে। সমীরদা বললেন- ‘শক্তি বিশ্বাস করতো জীবন শেষ করে পরলোকে সবাই মিলিত হবে, সেখানেই বের করবে কৃত্তিবাস পত্রিকা। ওর একটা দীর্ঘ কবিতা আছে ‘পৃথিবীর শেষ দিনে’। সেখান থেকে তোমাকে পড়ে শোনাই, শোনো। ওঁ কৃত্তিবাস!’

এর মাত্র অল্পকাল পরে সমীরদার মৃত্যু হয়েছিল। সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছিল সমীর রায়চৌধুরী নামক এক উজ্জ্বল সংহত গাণিতিক জৈব ব্যবস্থাপনা। একদিন মণীন্দ্র গুপ্তেরও মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুর এক বছর আগে, তিনি আমাকে একদিন জিগ্যেস করেছিলেন পরলোকের কথা। পরলোকে যদি কোনও মিষ্টি সুর বাজে, সেই সুর তিনি শুনতে চেয়েছিলেন জীবদ্দশাতেই। এসব আমার ‘উত্তরমালা, বেরিয়ে এসো প্লীজ’ ছবিতে আছে।

*
শীতরাতের নির্মেঘ আকাশ, বিশেষতঃ যদি দিনের বেলা এক পশলা বৃষ্টি হয়ে মেঘমুক্ত হয়, তবে রাতের আকাশ হয়ে ওঠে স্বচ্ছ, অদ্ভুত ঝলমলে, দারুণ দর্শনীয়। গ্রীষ্মরাতের তুলনায় শীতরাতের আকাশে নক্ষত্ররা দৃশ্যতঃ অনেক বেশি উজ্জ্বল। কেন হয় এমনটা? এর জন্যে একবার ছায়াপথের গঠনের দিকে নজর দিয়ে বুঝে নিতে হবে আমাদের সূর্য আর সৌরমন্ডলের অবস্থান। আমরা আছি ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে ২৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে, স্যাজিটারিয়াস আর্ম এবং পারসিউজ আর্মের মাঝখানে যে ছোট অরিয়ন বাহু (Orion Spur) আছে, তারই অন্তর্গত হয়ে। গ্রীষ্মকালের রাতে আমাদের পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের আকাশ থাকে ছায়াপথের কেন্দ্রের দিকে মুখ করে (নীচের ছবিতে লালরঙে তিরচিহ্ন যেদিকে)।

এইদিকে নক্ষত্রের সংখ্যা অনেক বেশি, কিন্তু তারা পৃথিবীর থেকে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি দূরত্বে রয়েছে, তাই কিছুটা নিস্প্রভ, এবং ছায়াপথের কেন্দ্রিয় অংশ থেকে বিচ্ছুরিত ছটার (Halo) জন্য আকাশ কিছুটা ঘোলাটে।
কিন্তু শীতকালে, পৌষ মাঘ ফাল্গুন মাসে, পৃথিবীর রাতের আকাশ থাকে ছায়াপথের কেন্দ্রের বিপরীত দিকে মুখ করে (ছবিতে নীলরঙে তিরচিহ্ন যেদিকে)। অর্থাৎ, এসময়ে আকাশ দেখছে ছায়াপথের চরকি-বৃত্তের বাইরের দিকে, যেদিকে ইন্টারগ্যালাক্টিক স্পেস (এক গ্যালাক্সি থেকে অন্য গ্যালাক্সির মাঝখানে যে বিপুল মহাশূন্য)। এইদিকে নক্ষত্রের সংখ্যা কম, তবে তারা তুলনায় পৃথিবীর অনেক নিকটবর্তী, তাই উজ্জ্বল এবং স্পষ্টতর। এদের অনেকেই বেশ বড় নক্ষত্র। তারা আমাদের প্রতিবেশী, একই রাস্তায় বাড়ি, কারণ তাদের অনেকেই রয়েছে আমাদের মতোই অরিয়ন বাহুতে। তাদের সকলের সাথে আলাপ হয়নি, কিন্তু কয়েকজনকে তো কতকাল ধরে চিনি। পাঠক, আপনিও হয়তো চেনেন।
এখন জানুয়ারি মাস। পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে (যার মধ্যে আছে আমাদের শহর কোলকাতাও) এখন শীতকাল। আকাশে চোখ রাখার এটাই উৎকৃষ্ট সময়। সন্ধেবেলা উত্তর-পশ্চিম আকাশে দিগন্তরেখার প্রায় ৪০ ডিগ্রি ওপরে রয়েছে অ্যান্ড্রোমিডা নেবুলা (M 31)। অবশ্য খালি চোখে তাকে চিনে নেওয়া অনেকেরই সম্ভব হবে না। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে, প্রায় ৬০ ডিগ্রি উঁচুতে আছে, পাঠক আপনি দেখলেই চিনতে পারবেন, ‘অরিয়ন দা হান্টার’, যাকে আমরা কালপুরুষ বলে জানি।
তাকে খুব সহজেই চেনা যায় তার কোমরবন্ধনীর তিনটে তারাকে দেখে, যারা আছে এক লাইনে, পাশাপাশি। তাদের নাম Alnitak, Alnilam, এবং Mintaka। পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব যথাক্রমে, ১২৬২, ১৩৪৪, এবং ১২৩৯ আলোকবর্ষ। [নীচে ছবিতে : কালপুরুষের প্রধান নক্ষত্ররা এবং তাদের আলোকবর্ষ দূরত্ব (LY)]

এই হান্টারের বাম হাতে আছে ধনুক অথবা ঢাল, দক্ষিণ বাহু উর্ধমুখী। সেই দক্ষিণ বাহুমূলে যে উজ্জ্বল কমলা রঙের অতিকায় নক্ষত্র, তার নাম বেটেলজিউস। সূর্যের চেয়ে আকারে ১৫০০ গুণ বড়। পৃথিবী থেকে প্রায় ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে আছে সে। তবে আমাদের সূর্যের ৪৬০ কোটি বছর বয়সের চেয়ে বিটেলজিউস অনেক ছোট, তার বয়স মাত্র ১ কোটি ১০ হাজার বছর। অথচ এত অল্প সময়ের মধ্যেই সে ফুরিয়ে ফেলেছে তার অনেকটা জ্বালানি। এখন তার বৃদ্ধাবস্থা, সে এখন ঢিমে আঁচের অতিকায় লাল নক্ষত্র (Red Supergiant)। তার উজ্জ্বলতা এখন প্রায়ই বাড়ে কমে। কয়েক বছর তো (২০১৯-’২০) খুবই ম্রিয়মাণ মনে হয়েছে তাকে। এখন আবার কিছুটা উজ্জ্বল। এর পরবর্তী অবস্থায় যা হয়, তা হোল এক অতিকায় বিস্ফোরণে সহসা ফেটে পড়া, যাকে ‘সুপারনোভা’ বিস্ফোরণ বলা হয়।
কবে এমনটা হবে, কেউ বলতে পারে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাই অধীর আগ্রহে একে লক্ষ করে চলেছেন। এটা আগামী কালই হতে পারে, অথবা এক হাজার বছর পরে। কিন্তু সেই বিস্ফোরণ হবেই, এটাই তার নিয়তি। যখন হবে, পৃথিবী থেকে নাকি অবশ্যই দেখা যাবে সেই বিপুল উদ্ভাস, এমনকি দিনের বেলার আকাশেও ; সকালের শুকতারার চেয়েও তাকে দেখাবে প্রায় ১০০ গুণ বেশি উজ্জ্বল। সেই বিপুল বিস্ফোরণের ধাক্কা মহাকাশে প্রায় ৫০ আলোকবর্ষ দূর অবধি ছড়িয়ে পড়বে। পৃথিবী তার থেকে ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে থাকার জন্যে আমাদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হবে না, কিন্তু তার মাধ্যাকর্ষণ-তরঙ্গ (Gravity Wave) ধরা পড়বেই পৃথিবীর ‘লাইগো’ গবেষণাগারে।
অতিকায় বিটেলজিউস নক্ষত্র যেমন কালপুরুষের বাহুমূলে আছে, তেমনই তার বাম পায়ের পাতায় আছে আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র ‘রাইজেল’ (Rigel), পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব প্রায় ৮০০ আলোকবর্ষ। আর কোমরবন্ধনী থেকে যে ছোট তরবারি ঝুলছে দেখা যায়, তার প্রান্তভাগে রয়েছে কিছুটা ঝাপসা মেঘের মতো অঞ্চল। ওটাই হল অরিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জ বা, অরিয়ন নেবুলা, যাকে টেলিস্কোপে অনেক স্পষ্ট দেখা যায়।

কালপুরুষের খুব কাছেই আছে আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র (Sirius), যাকে আমরা ‘লুব্ধক’ বলে জানি। মধ্যরাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল সে। কালপুরুষের বেল্টের তিনটে তারার সরলরেখাকে পেছনের দিকে বেশ কিছুটা বাড়িয়ে দিলে, পাওয়া যাবে লুব্ধককে [নীচে ছবিতে]।

[ নরেন্দ্রপুরের আকাশে কালপুরুষ ও লুব্ধক। রাত নটা, ২৫ জানুয়ারী ২০২২ ]

লুব্ধকের তাপমাত্রা ও আয়তন সূর্যের প্রায় দ্বিগুণ। পৃথিবী থেকে মাত্র সাড়ে আট (৮.৬১১) আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে সে। এই লুব্ধকের কথায় মনে পড়লো কবি উৎপলকুমার বসুর পুরী সিরিজের সেই কবিতাটা—
“দূরবীক্ষণ তুমি, চেয়ে আছ, ঝঞ্ঝার মেঘে, ওই নীলিমাবিথারে—
সমস্ত সন্ধ্যা ভ’রে লুব্ধকের পিছু পিছু আরও বহু তারা—
বনকুকুরের সারি জঙ্গলের মর্মে ছুটে চলে—
সমস্ত সন্ধ্যা ভ’রে লুব্ধকের পিছু পিছু দেখা যায় সমুদ্রমন্দির”
আমাদের সূর্য, পৃথিবী ও সমগ্র সৌরমন্ডল যেমন ছায়াপথের স্পাইরাল বা চরকি-বৃত্তের মধ্যে অরিয়ন বাহুতে অবস্থান করছে, তেমনই কালপুরুষ / অরিয়ন নক্ষত্রমন্ডলের অনেকেই যেমন, বিটেলজিউস, রাইজেল, এবং কোমরবন্ধনীর তিনটে নক্ষত্রই রয়েছে ছায়াপথের অরিয়ন বাহুতে, আমাদের প্রতিবেশী হয়ে।
*
মহাকাশের সুদূর প্রান্ত থেকে প্রতিদিন কত শব্দ এসে ধরা দিচ্ছে পৃথিবীর আকাশে। বিজ্ঞানীরা অশেষ কৌতূহল নিয়ে শুনছেন, রেডিও তরঙ্গের হাত ধরে এসে মুহূর্তের জন্য পৃথিবীতে আছড়ে পড়া সেইসব শব্দমালা। বুঝতে চেষ্টা করছেন, সুদূর আলোকবর্ষ পেরিয়ে কেউ কি কোনও বার্তা পাঠাচ্ছে আমাদের?
শুধু রাতের শব্দ নয়। মহাকাশের গভীর অন্ধকারের ভেতরে লুকিয়ে আছে কত বিস্ময়কর সৌন্দর্য, কত রঙে রঙ করা। মহাজাগতিক মণিহার যেন তারা। আশ্চর্য কত নক্ষত্রপুঞ্জ, গ্যালাক্সি। কত রঙীন সব নেবুলা, কোটি কোটি মাইলব্যাপী ছড়ানো মেঘের রাজ্য যেন। সেখানেই রয়েছে নক্ষত্র সৃষ্টির আঁতুড়ঘর। জন্ম নিচ্ছে শিশু নক্ষত্ররা।
মহাকাশের ভার্চুয়াল পর্যটনে আমরা আজ তাদের দেখতে পাচ্ছি, ঘরে বসে কম্পিউটার স্ক্রীনেও। হাবল টেলিস্কোপ, স্পিটজার টেলিস্কোপ, অথবা চন্দ্রা টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া কতশত ছবি। বিখ্যাত ‘পিলারস অফ ক্রিয়েশান’, ‘সিগনাস ওয়াল’, ‘হর্স হেড’। অথবা ‘নেকলেস নেবুলা’, যাকে আমি মহাজাগতিক মণিহার বলেছি। রাতের স্কাই পার্টিতে হইচই হয় এদের নিয়েই। তখন আর ভার্চুয়াল নয়। শহর থেকে দূরে, রাতের অন্ধকারে কোনও প্রান্তিক গ্রামের স্কুলের মাঠে, উন্মুক্ত আকাশের নীচে সারি সারি তাঁবু ও টেলিস্কোপ, স্কাইম্যাপ। অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটির একঝাঁক নিদ্রাহীন তরুণ তরুণী। টেলিস্কোপে তাদের অক্লান্ত চোখ। অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফি।
মহাকাশ সম্বন্ধে যারা উৎসাহী এবং অ্যামেচার, তাদের জন্য কয়েকটা ইন্টারেস্টিং নেবুলার সন্ধান দেওয়া যাক। অত্যন্ত তপ্ত আয়নিত গ্যাসের মেঘ দিয়ে গঠিত এইসব নেবুলা থেকে তীব্র বিকিরণ বেরিয়ে চলেছে। এরা দৃশ্যতঃ উজ্জ্বল ও সুন্দর, সহজেই চিনে নেওয়া যায়। এখানেই সৃষ্টি হয়ে চলেছে নতুন নতুন নক্ষত্র। ভালো বাইনোকুলার অথবা ১০০মিমি টেলিস্কোপ থাকলে, শহর থেকে দূরে, রাতের আকাশে দেখা যাবে ওইসব নেবুলাদের। অবশ্য আকাশ যদি স্বচ্ছ নির্মেঘ হয়।
গ্রীষ্মে ও শীতে দুই ধরনের দৃশ্যাবলী দেখা যায় আকাশে। আকাশে দেখা দেয় বিখ্যাত নক্ষত্ররা। এদের চেনার সুবিধার জন্যে দুটো কল্পিত ত্রিভুজ আছে, শীতকাল আর গরমকালের। এদের বলা হয় ‘উইন্টার ট্রায়াঙ্গল’ এবং ‘সামার ট্রায়াঙ্গল’। আকাশে এইসব তারাদের খালি চোখেই দেখা যায়। এদের চিনে নিতে পারলে, নিকটবর্তী নেবুলাদেরও খুঁজে পাওয়া সহজ হতে পারে।
আমাদের উত্তর গোলার্ধে, দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে, শীতরাতের ত্রিভুজে আছে প্রসিঅন, বিটেলজিউস (কালপুরুষের) এবং সিরিয়াস (লুব্ধক) নামের তিনটি তারা। শীতকালে ছায়াপথের যে অংশটা আমরা দেখতে পাই, তা এই ত্রিভুজের মধ্য দিয়েই গেছে, বিটেলজিউস নক্ষত্রের পাশ দিয়ে।
আর গ্রীষ্মরাতের ত্রিভুজে আছে ভেগা, ডেনেব এবং আলটেয়ার। এরাও সকলেই যথেষ্ট বড় এবং উজ্জ্বল।
[নীচে দুই ত্রিভুজের ছবি]
ক) শীতরাতের ত্রিভুজ (কালপুরুষের পাশেই) :

[ Winter Triangle: Procyon–Betelgeuse–Sirius ]

খ) গ্রীষ্মরাতের ত্রিভুজ :

[ Summer Triangle: Deneb–Altair–Vega ]

১। মহাজাগতিক মণিহার (Necklace Nebula; PN G054.2-03.4):
উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মরাতে তাকে দেখা যায়। মহাকাশে নাসার হাবল টেলিস্কোপ থেকে প্রথম সন্ধান পাওয়া গেছে তার। এর নাম নেকলেস নেবুলা, পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫,০০০ আলোকবর্ষ দূরে। এটা আসলে একটা বাইনারি স্টার সিস্টেম (PN Go 54.2-03.4.), যেখানে দুটো নক্ষত্র পরস্পরকে তীব্র বেগে প্রদক্ষিণ করে চলেছে। প্রায় প্রতিদিনে একবার! এই নেকলেসের সৃষ্টি হয়েছিল একটি নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে।
আনুমানিক দশ হাজার বছর আগে, বড় নক্ষত্রটি বিপুল বিস্ফোরণের ফলে ব্যাপক স্ফীতকায় হয়ে উঠলে দ্বিতীয় ছোট নক্ষত্রটিকে সে তার বাস্পমেঘের পরিধির মধ্যে গ্রাস করে ফেলে। এর ফলে প্রচন্ড বেড়ে যায় বড়টির ঘূর্ণনবেগ। তখন সেন্ট্রিফিউগাল বলের প্রভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস তার ইকোয়েটর বা বিষুবরেখা বরাবর একটি রিং-এর আকারে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে দেখতে লাগে একটা নেকলেসের মতো। মাঝে মাঝে সাদা উজ্জ্বল

[নেকলেস নেবুলা। ছবি: নাসা / হাবল টেলিস্কোপ, ২০১১]

 

রত্নখচিত অংশগুলো আসলে জমাট বাঁধা অতিতপ্ত গ্যাস। অপেক্ষাকৃত কম তাপ ও চাপের গ্যাসীয় অঞ্চলগুলো নানা রঙে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে হাইড্রোজেন নীল, অক্সিজেন সবুজ, এবং নাইট্রোজেন লাল। উত্তর আকাশে ছায়াপথের অন্তর্গত ‘স্যাজিটা’ (Sagitta) নক্ষত্রমন্ডলকে চিনে নিতে হবে। আকারে সে ছোট একটা তিরচিহ্নের মতো, যাতে রয়েছে চারটি নক্ষত্র। সেই স্যাজিটা মন্ডলেই রয়েছে এই নেকলেস নেবুলা, যার বিস্তার প্রায় দুই আলোকবর্ষ।

২। হর্স হেড নেবুলা (NGC 2023) :
অ্যামেচার অ্যাস্ট্রোনমারদের প্রিয় এই হর্সহেড নেবুলাটি রয়েছে অরিয়ন বা কালপুরুষ নক্ষত্রমন্ডলে। অর্থাৎ, শীতরাতের আকাশে তাকে দেখা যাবে। কালপুরুষের কোমরের বেল্টে যে তিনটে তারা আছে, তার মধ্যে একপাশে যে আলনিটক (Alnitak) নামের নক্ষত্র, তার একটু নীচেই আছে এই নেবুলা, যাকে ওই ঘোড়ার মুখের মতো আকৃতির জন্যই সহজে চিনে নেওয়া যাবে দূরবীক্ষণে। ঘন জমাট গ্যাসের মেঘ আর আয়নিত পরিমন্ডলে সৃষ্ট শক ওয়ভের অভিঘাতে এই রকম আকৃতি তৈরি হয়েছে। ১৭৮৫ সালে জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হেরশেল (William Herschel) একে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন। পৃথিবী থেকে এই নেবুলার দূরত্ব প্রায় ১৫০০ আলোকবর্ষ। 

Horse head nebula

[ অরিয়ন নক্ষত্রমন্ডলে ‘হর্স হেড’ নেবুলা ]

৩। হেলিক্স নেবুলা (NGC 7293) :
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নেবুলাদের মধ্যে রয়েছে এই হেলিক্স নেবুলা ; মাত্র ৬৯৫ আলোকবর্ষ দূরে। এর বিস্তার প্রায় তিন আলোকবর্ষ। এই গোলাকার উজ্জ্বল নেবুলার বয়স মাত্র দশ হাজার বছর। একটা মৃতপ্রায় নক্ষত্রের শেষ অবস্থায় যে বিস্ফোরণ ঘটে, তার থেকেই বেরিয়ে এসেছে অতি তপ্ত, বর্ণিল ও বিকিরণকারী গ্যাসের বিশাল ভান্ডার। এভাবেই সম্ভবতঃ সৃষ্টি হয়েছে এই নেবুলা। এখন এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি বামন নক্ষত্র, যাকে ঘিরে আছে আয়নিত পদার্থ ও গ্যাসের ঘন মেঘ। হাবল টেলিস্কোপ যখন ২০০৪ সালে এই ছবি তোলে, তখন থেকেই অনেকে একে ‘ঈশ্বরের চোখ’ বলে উল্লেখ করেন।

[ হেলিক্স নেবুলা : ঈশ্বরের চোখ ]

 

৪। সিগনাস ওয়াল (NGC 7000)।
প্রথমেই সামার ট্রায়াঙ্গলকে মনে করা যাক, একটু আগেই যার ছবি দেখিয়েছি। গ্রীষ্মরাতে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে তিনটে বিখ্যাত নক্ষত্রকে সরলরেখায় যোগ করলে যে ত্রিভুজ তৈরি হয় তাকেই বলে সামার ট্রায়াঙ্গল। এই তিনটে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম Altair, Deneb, এবং Vega. যারা রাতের আকাশের খবর রাখেন তাঁরা নিশ্চয়ই শুনেছেন এদের নাম। এই তিনটে তারার ত্রিভুজের মাঝখানেই রয়েছে বিশাল ব্যাপ্ত এক নক্ষত্রমন্ডলি, যার নাম সিগনাস (Cygnus)। আকারে তাকে মনে হবে ডানা মেলা একটা রাজহাঁস যেন। ডেনেব নক্ষত্রটা রয়েছে তারই পুচ্ছে।

এই সিগনাসের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত তপ্ত (২০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের ঘন মেঘে ভরা ছোট বড় অনেকগুলো নেবুলা, এদের বলে এমিশান (Emission) বা, বিকিরণকারী নেবুলা ; প্রচন্ড তাপে ও চাপে যাদের অভ্যন্তরে জন্ম নিচ্ছে অনেক নক্ষত্র।

সিগনাস নক্ষত্রমন্ডলে এমনই একটা নেবুলার নাম ‘নর্থ আমেরিকা নেবুলা’ (NGC 7000), যাকে দেখতে অনেকটাই উত্তর আমেরিকার মতো ; যেন কানাডা থেকে শুরু করে গাল্‌ফ অফ মেক্সিকো অব্দি বিস্তৃত অঞ্চল। তাই আকার দেখলেই চেনা যায়। ডেনেব নক্ষত্রের খুব কাছেই এর অবস্থান। সে আছে পৃথিবী থেকে প্রায় ২০০০ আলোকবর্ষ দূরে।

এই ‘নর্থ আমেরিকা’ নেবুলার মধ্যভাগে টানা দেওয়ালের মতো দীর্ঘ অংশটা ‘সিগনাস ওয়াল’ নামে বিখ্যাত, যার বিস্তার প্রায় ২০ আলোকবর্ষ। এই ওয়াল বরাবর জন্ম নিচ্ছে অনেক নতুন নক্ষত্র। পুরো নেবুলার মধ্যে এই দীর্ঘ ২০ আলোকবর্ষ ব্যাপী অঞ্চল জুড়েই রয়েছে নক্ষত্রের আঁতুড়ঘর। এইজন্যেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে ‘সিগনাস ওয়াল’ এত বিখ্যাত।

[ ‘নর্থ আমেরিকা’ নেবুলার অন্তর্গত ‘সিগনাস ওয়াল’ ]

 

৫। ঈগল নেবুলা (M16) এবং পিলারস অফ ক্রিয়েশান :
মহাকাশের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় ও বহু আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হল এই ‘পিলার্স অফ ক্রিয়েশান’। ১৯৯৫ সালে হাবল টেলিস্কোপের তোলা ছবিই তাকে পরিচিত ও বিখ্যাত করেছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে।

পৃথিবী থেকে ৭০০০ আলোকবর্ষ দূরে, ‘সার্পেন্স’ নক্ষত্রমন্ডলিতে (Serpens Constellation) আছে ঈগল নেবুলা (Eagle Nebula)। একে দেখা যায় গ্রীষ্মকালে, রাতের আকাশে। এই ঈগল নেবুলার মধ্যবর্তী একটা বিশাল অঞ্চল, যেখানে মহাজাগতিক গ্যাস ও ধূলিকণার ঘন মেঘ থেকে একটা হাতির শুঁড়ের মত আকৃতি দেখা গেছিল, তারই ছবিকে বিশ্লেষণ করে নজরে আসে কয়েকটা অতিকায় স্তম্ভ বা পিলারের অবয়ব। তার বিশালতা বিজ্ঞানীদের স্তম্ভিত করেছে।

[ঈগল নেবুলার অন্তর্গত ‘পিলার্স অফ ক্রিয়েশান’]

হাবল টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া দৃশ্য আলো এবং ইনফ্রা-রেড আলোর ছবি দেখে বোঝা যায়, এই গোটা অঞ্চলটাই হচ্ছে নক্ষত্র সৃষ্টির এক বিশাল কারখানা। এখানেই নতুন অনেক নক্ষত্রের জন্ম হয়ে চলেছে।

[পিলার্স অফ ক্রিয়েশান : বাঁদিকে দৃশ্য আলোয় তোলা ছবি, আর
ডানদিকে ইনফ্রা-রেড আলোয় তোলা পিলারের অভ্যন্তরের ছবি]

হাবল টেলিস্কোপের তোলা শ্রেষ্ঠ দশটি ছবির মধ্যে একে গণ্যকরা হয়। পরে আবার ২০১৪ সালেও এর ছবি তোলে হাবল। ন্যাশানাল জিওগ্রাফি জানিয়েছে যে, এই বিখ্যাত পিলার্সের ছবির বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক ব্যবহার দেখতে পাওয়া গেছে ; কফির মাগ, টি-শার্ট, সর্বত্রই ছাপা হয়েছে তার ছবি।

তবে স্পিটজার টেলিস্কোপের কিছু ছবি থেকে বিজ্ঞানীদের মনে হয়েছে যে, ৬০০০ বছর আগে ঈগল নেবুলার নিকটবর্তী অঞ্চলে কোনও সুপারনোভা বিস্ফোরণের তীব্র শক ওয়েভে বুঝি ধ্বংস হয়ে গেছে ওই পিলার্স। অবশ্য এর বিপক্ষ মতও আছে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, এখনও দীর্ঘকাল টিকে থাকবে ওই বিশাল স্তম্ভগুলো।

সম্ভ্রম জাগানো মহান ওইসব মহাজাগতিক স্তম্ভ ! এদের প্রস্থ ও উচ্চতা, যথাক্রমে ৫ এবং ১০ আলোকবর্ষ! যুগপৎ ভয়াবহ ও গম্ভীর। ওই বিশাল সৃষ্টিস্তম্ভের দৃশ্যের সামনে দাঁড়ালে আড়ষ্ট ও অভিভূত হয়ে যেতে হয়। তখনই আমার মনে পড়ে যায় জীবনানন্দের ‘হাওয়ার রাত’ কবিতার কথা:

“…অতিদূর আকাশের সীমানায় কুয়াশায়-কুয়াশায় দীর্ঘ বর্শা হাতে ক’রে
                          কাতারে-কাতারে দাঁড়িয়ে গেছে যেন—
মৃত্যুকে দলিত করবার জন্য?
জীবনের গভীর জয় প্রকাশ করার জন্য?
প্রেমের ভয়াবহ গম্ভীর স্তম্ভ তুলবার জন্য?
আড়ষ্ট—অভিভূত হ’য়ে গেছি আমি”

[ক্রমশঃ]

Facebook Comments

Leave a Reply