চট(জলদি) কথা : শঙ্কর রায়

fail

মাঝে মাঝেই খবরে দেখি কোন না কোন চটকল-এর লক-আউট বা সাসপেনশন-অফ-ওয়ার্কস (লক-আউট-এর অপর নাম)। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই মিল কিছুদিন বাদেই আবার খুলে যায়। শ্রমিকদের ওপর শর্ত চাপিয়ে তবেই খোলা হয়। সক্কালবেলা গিয়ে শ্রমিকরা দ্যাখে মিল গেট বন্ধ, গেটের দেয়ালে বা গেটেই লেপটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি—অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন হবে না৷ কাঁচামালের যোগানে ঘাটতির জন্যই নাকি সে বিজ্ঞপ্তি জারি৷ আবার খুলেও যায় কিছুদিন বাদে। এ সব দেখে মনে হয় যে চটশিল্প রুগ্ন বা ধুঁকছে। বিদেশ থেকে শিল্প/শিল্পশ্রমিক নিয়ে গবেষণা সূত্রে সমীক্ষা করতে এসে একাধিক অ্যাকাডেমিক কথাচ্ছলে বলেন, চটশিল্প এক বিরল সাবেকী পরিবেশবান্ধব শিল্পোদ্যোগ, যার পশ্চিমী দেশে বিপুল চাহিদা। এমন শিল্পের সংকট হয় কি করে? সংকট আসলে লোক দেখানো, একথা চটকল শ্রমিক নেতারা জোর দিয়েই বলেন । কিন্তু এটাও ঠিক যে চটকল শিল্পের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের এক ধরনের বিমাতৃসুলভ আচরণ বিদ্যমান। কেন্দ্রে যে সরকারই ক্ষমতাসীন হয়েছে, কায়েমীস্বার্থসেবী ব্যবসায়ী মহলের চাপে পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিক থলি উৎপাদনকারী শিল্পপতিদের হাতে তামাক খেয়ে সিমেন্ট, চিনি ইত্যাদির জন্য প্লাস্টিক থলি বাধ্যতামূলক করেছে যে কারণে চটকলগুলির চাহিদা মার খায়। শ্রমিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী সাংসদদের চাপে চটের থলি ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশনামা জারি করেছে। কিন্তু ছড়ি ঘোরাতে থাকে প্লাস্টিক লবি। আবার প্লাস্টিক থলি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার চেতাবনি জারি হয়।
এই রাজ্যে চটকলে প্রায় গোটা কুড়ি (বেশীও হতে পারে) ইউনিয়ন আছে। তাদের দরাদরির ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। প্রথম যুক্ত ফ্রন্ট আসার পরে ইউনিয়নগুলির শ্রেণি ভূমিকা পরিস্ফুট হয়, যা ১৯৮০-র দশকের অব্দি এই জোশ বজায় থাকে। সিপিআই(এম) সিদ্ধার্থ রায়ের রাজত্বকালকে ‘আধা-ফ্যাসিস্ত’ (এক অদ্ভুত চরিত্রায়ন) বললেও সেই আমলে শ্রমমন্ত্রী ডাঃ গোপাল দাস নাগ শ্রমিকদের পক্ষে ছিলেন না, তা বলা যায় না। তিনিই প্রবর্তন করেন লক আউট বা ক্লোজার ঘোষণার ৬০ দিন আগে রাজ্য সরকারকে জানাতে হবে এবং রাজ্য সরকার ইচ্ছে করলে অনুমতি নাও দিতে পারেন। সেই সময় চটকল, চা বাগিচা, সুতা কল ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে ৪/৫ বছর অন্তর ত্রিপাক্ষিক মজুরীসহ শ্রমজীবীদের অন্যান্য প্রাপ্য জীবিকা-সম্পর্কিত প্রাপ্য পুনর্নিধারিত। যেমন চটশিল্পে মজুরী চুক্তি চার বছর বহাল থাকত, ফুরলেই (ফুরবার কয়েক মাস আগেই) ত্রিপাক্ষিক (মালিক, সরকার ও শ্রমিক) আলোচনা শেষে ঐকমতে পৌঁছে মজুরি-ভাতা ইত্যাদি সংশোধিত (বর্ধিত) হত, কোন কোন সময় কোন কোন ইউনিয়ন ভিন্নমত প্রকাশ করত। যদি এমন হত যে মেয়াদ ফুরনোর দুমাস পরে স্বাক্ষরিত হল, তখন তা কার্যকরী হত মেয়াদ ফুরনোর পরের দিন থেকে। বামফ্রন্ট আমলে জ্যোতি বসুর মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ে নতুন চুক্তি কার্যকর হত চুক্তি স্বাক্ষর হবার পরের দিন থেকে, বকেয়া পাওনা থেকে বঞ্চিত হতেন শ্রমজীবীরা। চট, চা বাগিচা, সুতা-কল, ইঞ্জিনিয়ারিং সব ক্ষেত্রে মেহনতিরা বঞ্চিত হতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গে আইএনটিইউসি-র প্রাদেশিক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সমর চক্রবর্তী হিশেব করে দেখিয়ে ছিলেন, ১৯৮০-র দশকে এই চার শিল্পের মালিকেরা প্রায় ৭৪ কোটি টাকা এভাবে মুনাফা লুটেছিল, সবচেয়ে বেশী চটকল মালিকেরা। জ্যোতি বাবু ও তাঁর দলের নেতারা বলতেন পশ্চিম বঙ্গের শ্রমিকেরা লড়াকু হলেও বিশৃঙ্খল নয়, শিল্পের স্বার্থেই তারা হঠকারী কাজ করেন না। অর্থাৎ এই যে বঞ্চনার কথা বললাম, তা নিয়ে ধর্মঘট, কামবন্ধ ইত্যাদি করবে না।
এই কথাগুলো বললাম এই জন্যে যে চটকল মালিকদের দৌরাত্ম্য লালিত হয়েছে বাম আমলেই। বাম আমলেই চটকল শিল্পে মালিকানার চরিত্র বদলাতে শুরু করল। একে একে মিলগুলো পাইকারি পাট ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেল। নতুন মালিকেরা চটকল মালিকদের শক্তিশালী সঙ্ঘ ইন্ডিয়ান জূট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিল না। তারা চালু করল ভাগাওয়ালা শ্রমিক, ‘জিরো নম্বর’ শ্রমিক প্রথা চালু করল। বদলা শ্রমিক তো ছিলই, তবে ১৯৭০-এর দশকে ব্যাপক সংখ্যায় ছিল না। ‘জিরো নম্বর’দের বিধিবদ্ধ দৈনিক মজুরি তো দূরস্থান, শ্রমিক হিশেবে খাতা কলমে নাম থাকত না। এ নিয়ে ইউনিয়নগুলো প্রতিবাদ করলেও সুরাহা হয় নি, কারণ রাজ্য সরকার (বাম আমলে শুরু) নীরব থেকেছে। অনেক মিল ইজারার ভিত্তিতে চলা শুরু হ’ল। অনেকে রুষ্ট হলেও বলছি, ডাঃ গোপাল দাস নাগের আমলে এসব প্রচলন এত সহজে সম্ভব হত না।
পরাধীন ভারতে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হুকুমতের কালে ব্রিটিশ শিল্পপতিরা ভাগীরথী হুগলী নদীর পাড়ে সিপাহী বিদ্রোহের দু’বছর আগে ভারতে প্রথম চটকল হুগলী জেলার রিষড়ায় স্থাপিত করে।সেই ওয়েলিংটন জুট মিল এখনো সজীব। তার আগে ১৮২২ সালে স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে প্রথম চটকল স্থাপিত হয়৷ কালক্রমে তারপরে একের পর এক চটকল গড়ে উঠেছিল: ভদ্রেশ্বরের শ্যামনগর নর্থ, রিষড়ার ওয়েলিংটন, শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুটমিল, হাওড়ার ডেলটা জুটমিল, উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি জুটমিল, কাঁকিনাড়া জুটমিল গৌরীপুর কোম্পানি, টিটাগড় জুটমিল, চন্দননগরের গোন্দলপাড়া জুটমিল ইত্যাদি। একদা রমরমা সেই সব চটকলগুলির অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিগুলোর অধিকাংশ ধুঁকছে। অথচ এমন তো হবার কথা নয়।এবছর জানুয়ারি মাসের শেষে একটি বামপন্থী ওয়েব দৈনিকে প্রচ্ছন্নভাবে চটকল মালিকদের মিল বন্ধ (লক আউট/ক্লোজার) করার অজুহাতকে সমর্থন করে বলা হয়েছে যে কাঁচা পাটের অভাবে সাময়িকভাবে হলেও কারখানা বন্ধ করতে হচ্ছে। কাঁচা পাট মজুতদারদের কথা একবারও বলা হয় নি। চটকল গুলোর হাল-হকিকত সম্পর্কে যাঁরা ওয়াকিবহাল ও মিল এলাকায় যাঁদের যাতায়াত আছে, তাঁরা জানেন যে এই পাট মজুতদারদের অধিকাংশের বকলমে মালিক চটকল মালিকেরা।কোথায় কোথায় (পাট গুদামগুলিতে নয়) রাজ্য সরকারের গোয়েন্দাদের পক্ষে সেইগুলি খুঁজে বের করা কঠিন নয়, কিন্তু সেই নির্দেশ আসতে হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এভাবে পাট মজুত রাখা বেআইনি, তবু এরা মজুত করে যাচ্ছেই, কারণ এদের পয়সায় লালিত অনেক রাজনৈতিক নেতা, কিছু কিছু শ্রমিক নেতারা। যদি মজুত উদ্ধার অভিযান (আচমকা, আগে থেকে জানালে রাতারাতি অন্যত্র সরিয়ে নেবে।) কাঁচা পাটের দর কুইন্টাল প্রতি ৭২০০-৭৩০০ টাকা থেকে হু হু করে নেমে যাবে। জুট কমিশনার নির্ধারিত দাম ৬৫০০ টাকা, যা পাটচাষীরা পান না, পেতে পারেন তা ভাবতেই পারেন না। চটকল মালিকদের সংগঠন, ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (ইজমা) আজ অব্ধি কখনো মজুত উদ্ধারের দাবি করে নি। পূর্বোদ্ধৃত ওয়েব দৈনিকে লেখা হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী ও সি আই টি ইউ নেতা অনাদি সাহু গত বছরের শেষে বলেছিলেন ‘‘জুলাইয়ে নতুন পাট বাজারে এসেছে৷ এবার পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে৷ অথচ চটকল একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷ এটা শুধু আড়াই লাখ শ্রমিকের সমস্যা নয়৷ চল্লিশ লাখ পাটচাষিও সংকটে পড়ছেন৷’’ কাঁচা পাটের বেপরোয়া কালোবাজারি চলছে৷ কালোবাজার আলো করা পাট ব্যবসায়ীদের ফড়েরা চাষিদের কাছ থেকে কিনে পাট মজুত রেখেছে৷ তাই কুইন্টাল প্রতি বাজার দর ৭০০০ টাকা গত বছরের শেষ দিন থেকে। পূর্বোল্লিখিত ওয়েব পত্রিকায় বলা হয়েছে, ইজমা কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার উভয়ের কাছেই লিখেছে জুট কমিশনারের দপ্তর “যৌক্তিক মূল্য” (যৌক্তিক মূল্য বলে কিছু হয় না, হবে সহায়ক মূল্য, নয় সংগ্রহ মূল্য- লেখক) ঘোষণা করার পর থেকে এক দিনের জন্যও ৬৫০০ টাকায় পাট পাওয়া যাচ্ছে না আর কাঁচা পাট সংবহনের জন্য ৬৫০০টাকা যথেষ্ট নয়। বেআইনিভাবে কাঁচা পাট মজুতদারি নিয়ে ওয়েব দৈনিকটি নীরব।

চটকল মালিকানার চরিত্র কিরকম পালটাচ্ছে, তা নিয়ে দু’চার কথা পেশ করি। বামফ্রন্ট আমলে বরানগর জুট মিল বিক্রির কথা উঠল, মিলটি তখন বোর্ড ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল রিকন্সট্রাকশন-এর (বিআইএফআর)। এক মালিক কলকাতা হাই কোর্টে বললেন, তাঁর কোম্পানি কিনতে রাজি, কিন্তু আগে জানানো হোক চটকলটির প্রকৃত মালিক কে। কোন উত্তর মেলে নি। এই যে ইজারা-দেওয়া মালিকানা বা না-জানা মালিকানার রমরমার জন্য দায়ী ইজমা।
চটকল শ্রমিকরা এক ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সপরিবারে জীবনযাপন করছে। ধরা যাক কানোরিয়া জুট মিলের কথা (সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়নের জন্মের আগের কথা বলছি)। অবসর নেবার পরেও হাজার হাজার শ্রমিকদের বিধিবদ্ধ ভবিষ্য নিধি ও গ্রাচুয়িটি (ই এস আই বাবদ পাওনা) দেওয়া হচ্ছে না, তার মধ্যে শিউ শঙ্কর পাসারি (কানোরিয়ার মালিক) ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও ভবিষ্য নিধি কমিশনার আদালতের সাহায্যে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। রাজ্যের পুলিশ নাকি তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। তখন পুলিশ দপ্তর মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জিম্মায়। পাসারি কানোরিয়া মিল খোলা নিয়ে রাজ্য সরকারের সাথে আলোচনায় এলেন গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলে। সেখান থেকে বৈঠক সেরে বেরোনোর সময় তো তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় নি। এই হল শ্রমিক-দরদী বামফ্রন্ট সরকারের চরিত্র।
প্রাচীন পরিকাঠামো ও পরিচালনগত অযোগ্যতার জন্য চটশিল্প কৃত্রিম ভাবে মৃতপ্রায়, কিন্তু এর শিকার শ্রমিকেরা নতুন শ্রমিক কাজ শুরু করার সময় ৪০০ টাকার কম দৈনিক মজুরি পান৷ নির্মাণ শ্রমিকের চেয়েও কম এই মজুরী। শ্রমিক সংগঠনগুলি সঙ্গতভাবেই দৈনিক এক হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবি করেছেন অর্থাৎ ২৬ দিন কাজ করলে ২৬ হাজার টাকা একজন নতুন শ্রমিকের প্রাপ্য।
মোঘল আমলেও ভারতে পাট ব্যবহার হত৷ আকবরের সময়ে গ্রামীণ প্রান্তিক মানুষেরা পাটের তৈরি কাপড় পরতেন৷ হাতে তৈরি দড়িসহ কিছু পাটজাত পণ্য তো ছিলই৷ ঔপনিবেশিক আমলে ভারত থেকে পাট রফতানি শুরু হয়। এদেশ থেকে ১৮৩৫ সালে ১০২২ টন পাট রফতানি, ১৮৫০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার টনে৷ বাংলার পাট দিয়ে ইউরোপে তৈরি হয় এক ধনিক শ্রেণি, যাদের বলা হত জুট ব্যারন৷ তারাই প্রথম রিষড়ায় চটকল স্থাপন করে।
এক সময় চটকলের সাইরেনের আওয়াজে একদা শহরের ঘুম ভাঙত, চটকলের চিমনির ধোঁয়ায় ভরা আকাশ, এখন এসব অতীত। বোনাসের দাবিতে ১৯৫৩ সালে প্রথম একদিনের প্রতীকী ধর্মঘট হয়েছিল। চটকল শ্রমিক আন্দোলনের জোয়ার আসে ১৯৬৭ সালে প্রথম যুক্ত ফ্রন্ট আমলে। তারপরে ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৭৯ ও ১৯৮৪-তে একের পর এক চটকলে বৃহৎ ধর্মঘট সংগঠিত হয়—মজুরী বৃদ্ধি, ইএসআই, মহার্ঘভাতা, গৃহভাতা, গ্র্যাচুইটি, ভবিষ্য নিধি, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, বোনাস ইত্যাদি মূল দাবি। এই দাবির অনেকাংশ মালিক পূরণ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ভাগাওয়ালা, জিরো নাম্বার ইত্যাদি সেই অর্জনগুলিকে ম্লান করে দেয়। শুনতে খারাপ লাগলেও এই বিষয়টা লালিত হয়েছিল বামফ্রন্ট আমলে, যদিও শ্রমিক ইউনিয়নগুলি প্রতিবাদ জানিয়েছে। আসলে সরকার যদি অনীহ, নিষ্ক্রিয় হয়, শ্রমিক নেতারা নিরুপায়।
ফেরা যাক ১৯৩২ সালে। সেবার ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এআইটিইউসি-র চটকলগুলিতে লাগাতর ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী সরকার মালিকদের (সব ব্রিটিশ) মদৎ দিয়ে অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে। তখন উদ্বেগ প্রকাশ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন: ‘ফেব্রুয়ারি থেকে শত সহস্র শ্রমিকদের দুর্দশার কথা জেনে আমি ব্যথিত।’ উদ্বেগের কারণ মালিক-সরকার যোগসাজশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানি দেওয়া হচ্ছিল। কবি ঐ বিবৃতিতেই কড়া ভাষায় লিখেছিলেন: ‘ধর্মঘটকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঘুরিয়ে দেবার জন্য কুৎসিত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টিকে প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ লোকের নিন্দা করা উচিৎ। চটকল শ্রমিকদের ও তাঁদের অসহায় পরিবার পরিজনদের এই দুঃখকষ্টের দিনে সাহায্য করার জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আবেদন করছি।’

[লেখক – বরিষ্ঠ সাংবাদিক ও মার্কসপন্থী চিন্তক।]

Facebook Comments

Leave a Reply